বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১০

শেয়ার বাজারের অ, আ, ক, খ

শেয়ার কি?

“এক কথায় বলতে গেলে কোনো কোম্পানি মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তার উদ্দিষ্ট প্রাথমিক মূলধনকে কতোগুলো ছোট অংশে ভাগ করে জনগণের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়, এই প্রত্যেকটি অংশকে এক একটি শেয়ার বলে।“

কিভাবে শুরু করা যায়

প্রাপ্ত বয়স্ক মানে ১৮+ যে কেউ শেয়ার ব্যবসায় আসতে পারেন। তবে তার জন্য প্রথম যে কাজটি করতে হবে তা হলো ব্যাংকে সঞ্চয়ী (savings) হিসাব খুলতে হবে। এরপর সেই ব্যাংক হিসেবের বিপরীতে CDBL (সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অফ বাংলাদেশ লিমিটেডের) অধীনে বিও (বেনিফিসিয়ারি অনার) একাউন্ট খুলতে হবে। মানে সোজা বাংলায় আপনি যে কোনো ব্রোকার হাউসে থেকে এ বিও একাউন্ট খুলতে পারেন। এ বিও একাউন্ট খোলার পর একজন বিনিয়োগকারী প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি উভয় মার্কেটে শেয়ার ব্যবসা করতে পারেন।

বিও একাউন্ট খুলতে যা লাগবে

    ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
    ব্যাংক সার্টিফিকেট/ভোটার আইডি/পাসপোর্ট।
    একজন আইডিটেন্টি ফাইয়ার।
    পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
    একজন নমিনি।
একজন বিনিয়োগকারী দুটির বেশি বিও একাউন্ট খুলতে পারেন না। সেজন্য তাকে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা দিতে হবে। মানে ব্রোকার হাউজ বিশেষ এই দর কম বেশি হয়।

প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি শেয়ার এর পার্থক্য

প্রত্যেক বছর বেশ কিছু কোম্পানি IPO (ইনিশিয়াল পাবলিক অফার ) দিয়ে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়। একটি কোম্পানি যখন প্রথমবারের মতো বাজারে প্রবেশ করে বা শেয়ার বাজারে ছাড়ে তাকে প্রাইমারি শেয়ার বলে। যখন আপনি B.O. Account খুলবেন, তারপর আপনাকে ঐ কোম্পানীর প্রাইমারী শেয়ারের আবেদন পত্রটি সংগ্রহ করতে হবে এবং ঐখানে যেসব ব্যাংক এর লিস্ট থাকবে তার যে কোন একটি ব্যাংক এ তা জমা দিতে হবে। আর যেটাই করেন না কেন, সবকিছুই করতে হবে আপনার একটি Broker House এর মাধ্যমে।
প্রাইমারি শেয়ার একবার বাজারে বিক্রি হয়ে গেলেই তা সেকেন্ডারি হয়ে যায়। তখন সেটা সেকেন্ডারি মার্কেট চলে আসে আর সেই শেয়ার সেকেন্ডারি শেয়ার বলে গণ্য করা হয়। সেকেন্ডারি মার্কেটে আপনি ইচ্ছা মতো শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন। পুঁজি ও ঝুঁকি কেমন বাংলাদেশে শেয়ার বাজারে বর্তমানে দুটা ক্যাটাগরিতে শেয়ার লেনদেন হয়ে থাকে। প্রাইমারি(আইপিও) এবং সেকেন্ডারি। প্রাইমারি শেয়ারের জন্য আবেদন করতে খুব বেশি টাকার প্রয়োজন হয় না।
প্রাথমিক শেয়ারের ক্ষেত্রে ঝুঁকি খুবই কম। সেকেন্ডারি মার্কেটে লাভের সম্ভাবনা যেমন আছে তেমনি ঝুঁকিও বেশি আছে। না বুঝে সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়। তাই কোনো রকম গুজবে কান না দিয়ে বুঝে-শুনে বিনিয়োগ করাই ভাল। পেশাদার সেকেন্ডারি ব্যবসায়ী বেশি টাকা নিয়া শুরু করতে হবে।

বাংলাদেশে শেয়ার বাজারে শতকরা ১০০ জন এর মাঝে

• ৪০ শতাংশ বাজারের কিছুই জানেন না।
• ৫০ শতাংশ কিছু কিছু জানেন।
• আর ১০ শতাংশ আছেন যারা মোটামূটি পূরো বাজার নিয়ন্ত্রন করেন।
এই প্রসঙ্গে উইলিয়াম আর্থার ওয়ার্ড বলেছেন, ‘ইনভেস্টিগেট বিফোর ইনভেস্ট’

কিছু প্রয়োজনীয় লিঙ্ক

ডিএসই
or
সিএসই
এসইসি
এসইসি ও ডিএসই এর সার্কুলার
http://dse.com.bd/sec&dsecircular.php
সিডিবিএল
গ্লোবাল স্টক মার্কেট এড্রেস
আইপিও- লটারি নিউজ
http://dse.com.bd/ipo_lottery_result.php
সার্কিট ব্রেকার
শেয়ার কেনার আগে যেগুলো দেখে নিতে হয়
P/E দেখুন। শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে কোম্পানির মূল ভিত্তি দেখে কেনা।
• NAV দেখুন। এর সাথে বাজার মূল্যের একটা সামাঞ্জস্য থাকা উচিত।
• EPS দেখুন। যে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় বেশি এবং নেট অ্যাসেট ভ্যালু বেশি।
• মোট শেয়ারের সংখ্যা দেখুন। আর দেখুন তার কতটুকু পাবলিকের হাতে।
• authorized capital আর Paid-Up Capita এর রেশিয়ো দেখুন।
• গত ৩-৪ বছরের ট্রেক রেকর্ড দেখুন। কোম্পানির ব্যালেন্স সিট সম্পর্কে ধারণা রাখা।
• দেশি-বিদেশি শেয়ার মার্কেটের ওপর জ্ঞান রাখা এবং
• যে কোনো ধরনের গুজব এড়িয়ে চলা।
• কোম্পানির পণ্যের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা। মনে রাখবেন বিক্রির সময় নয় বরং কেনার সময়ই লাভ করতে হ্য়।

শেয়ার বাজারের প্রচলিত টার্মসগুল

Earning Per Share (EPS): earning of each share unit of a company.
Net Asset Value (NAV): Asset (such as matchings, buildings, land, deposit money ) value of each share.
Price Earning Ratio (P/E): Ration of earning with price.
Face value : Inertial price of a share.
Market value: Current price of a share.
The authorized capital: of a company is the maximum amount of share capital that the company is authorized by its constitutional documents to issue to shareholders.
Paid-Up Capital: The total amount of shareholder capital that has been paid in full by shareholders.
outstanding capital : The number of shares of capital stock that have been issued and that are in public hands.
আর বাংলাদেশে এর প্রচলিত আইনে কাউকে শেয়ার কিনতে উৎসাহ দেয়া যায় না।
আমি আপনাদের কে নিজে থেকে বুঝে তারপর এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করবো।

শেয়ার কি কেন কিভাবে ?

শেয়ার কি: শেয়ার হচ্ছে কম্পানির মালিকানার অংশ। অবশ্য পুঁজিরও অংশ বটে। এ শেয়ার কেনাবেচা করা যায়।এখানে বিনিয়োগ করে দুই ভাবে লাভবান হওয়া যায়। একটি হচ্ছে ওঠানামার কারণ, অপরটি হচ্ছে কম্পানির বন্টিত মুনাফার অংশ, যা লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড হিসেবে দেয়া হয়
শেয়ার বাজার কি:- শেয়ার বাজার হচ্ছে কোন কম্পানির মালিকানার অংশ। কোন কোম্পানির মূলধনকে ছোট ছোট কতকগুলো অংশে ভাগ করা হয় এবং সে যতটুকু অংশ ক্রয় করে তাকে সেই অংশের মালিক বা শেয়ার হোল্ডার বলে। অতএব, যে সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শূলধন সঙগ্রহ ও বিতরণে নিয়জিত রয়েছে বা শেয়ারের মালিকানা ক্রয় বিক্রয়ে নিয়োজিত তাদের সমন্ময়ে পুজিবাজার বা শেয়ার বাজার গঠিত। সিকিউরিটি মার্কেটকে ব্যাপক অর্থে পুজিবাজারও বলা হয়। শেয়ার বাজারে সরকারী ও বেসরকারী এবং বিভিন্ন প্রাইভেট লিমিটেড কম্পানির শেয়ার- এর লেনদেন হয়ে থাকে
শেয়ার বাজার ও মুদ্রা বাজারের মধ্যে পার্থক্য: মূলধন বাজার বা শেয়ার বাজার ও মুদ্রা বাজারের মধ্যে যে পার্থক্যটি বিদ্যমান সেটি হল সময় পরিধীর পার্থক্য। মুদ্রা বাজার হচ্ছে সল্পকালের বাজার, সেখানে খুবই অল্প সময়ের জন্য লেনদেন হয়। যেমন: ইন্টার ব্যাংক মানি মর্কেট এ বাজারের সুদ বা লাভ নির্ভর করে মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহের ওপর। এখানে অনূর্ধ এক বছরের জন্য পুজি সরবরাহ বরা হয়্। শেয়ার বাজার বা পুজি বাজারে বিনিয়োগ হবে বেশ কিছু সময়ের জন্য। বিনিয়োগ করে কম্পানির শেয়ার ক্রয় করা হয় এবং কোম্পনি লাভ করলে বছর বছর “ডিভিডেন্ড” দেবে, বোনাস শেয়ার দেবে। এক বাজারে ঝুকি বিষয়টি বেশি থাকে। ঝুকি উঠা-নামা করে থাকে শেয়ারের বাজার দরের উত্থান-পতন থেকে। এখানে ৫বছর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের জন্য পূজি সরবারহ করা হয়ে থাকে।
কিভাবে শেয়ার বাজার বিনিয়োগ করতে হবে:- যে কোন বিনিয়োগ কারী বিশেষত ক্ষুদ্র বিনিযোগ কারিদের কোন কম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করার পূর্বে প্রথমত বাজারে তালিকা ভুক্ত কোম্পানির আর্থিক হিসাব বিবরণীতে উল্লেখিত তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, শেয়ার বাজার সম্পর্কিত কিছু টার্মস্ বা বিষয় যেমন ইপিএস, ডিডভডেন্ড বা লভ্যাংশ,ডিডভডেন্ড ইয়েল্ড, প্রাইস আরণিং র‌্যাশিও, নিট অ্যাসেট ভ্যালূ ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে হবে।
শেয়ার বাজার সম্পর্কিত কিছু শব্দ-সংক্ষেপ:
AGM : Annual General Meeting
BO : Beneficiary Owner.
CB: Cum Bonus Share.
CR : Cum Right Share.

শেয়ার ব্যবসার হালচাল

মুক্তি ফোন করেছে। আমি- বাজার কেন এমন, বাজার কখন ভাল হবে, বাজারের জন্য চিন্তা হয় ইত্যাদি ইত্যাদি বলছি কিন্তু মুক্তি ফোনের অপরপ্রান্তে নিরুদ্বেগ আর প্রশান্ত। ধ্যুর চিন্তার কিছু নেই, বাজার উঠে যাবে। কথাবার্তা শেষ করে ফোন রেখেছি, আম্মা জানতে চান, বাজারে কী হয়েছে? হঠাৎ আমি বাজার নিয়ে এত টেনশনে কেন- আম্মার উদ্বিগ্ন চেহারা, সেখানে নানা প্রশ্ন। আমি হেসে বলি আম্মা এই বাজার সেই বাজার নয়-শেয়ার শেয়ার। আম্মা বলেন, 'ও'।
হাঁটতে বাজার বসতে বাজার, বাজারের শোরে সব একাকার। একটা গল্প বলি, ১৯২৯ সালে মূল্য ধসের আগে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসার লোভে জন এফ কেনেডির পিতা সেখানে বিনিয়োগ করতে গিয়েছিলেন। একদিন ওয়াল স্ট্রিট দিয়ে হেঁটে যাবার সময় তিনি শুনলেন স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনের সামনে এক বুট পালিশঅলা বলছে, ’buy oils and rails. They’re gonna hit the sky’.
অর্থাৎ তেল কোম্পানী আর রেলের. শেয়ার কেনো এগুলোর দাম আকাশ চুম্বি হবে। সে রাতে তিনি তার স্ত্রীকে বললেন, যে বাজারে সবাই খেলতে পারে এমন কি একজন বুট পালিশঅলাও ভবিষ্যদ্বানী করতে পারে, সে বাজার তার কাছে কোন বাজার নয়। তিনি সে সময় তার টাকা লগ্নি করেছিলেন রিয়েল এস্টেট বা ণির্মান ব্যবসায় এবং ব্যাপক লাভবান হয়েছিলেন। আর ১৯২৯ এর ওয়াল স্ট্রিটের ধস তো মহাপ্লাবনের মত ভয়ঙ্কর হয়েছিল সেটি সর্বজনবিদিত।
আর এই গল্পটিতো সবাই জানেন, একজন শেয়ার মার্কেটের দালাল দিনরাত লোহা, তামা বেচাকেনা করছেন। একদিন অফিসে তার কাছে বাড়ি থেকে ফোন এল, বাড়ির ঝি ফোন করেছে, বাবু গিন্নি মা পড়ে গেছেন।
এুণি বেচে দাও-আদেশ করলেন অন্যমনস্ক শেয়ার স্পেকুলেটর ভদ্রলোক- এক মিনিট দেরী না করে।
পড়ে যাওয়া মানে শেয়ারের দাম কমে ভুত হয়ে যাওয়া। এই সময় বেচা ছাড়া গতি কি! বেচারা কি আর বুঝতে পেরেছে তার বৌ পড়ে গিয়েছে।
আমাদের এইসব দিনরাত্রি কেমন কাটে? কোন কোন দিন এমন কাটে, কোন নিউজ নেই অথচ আইটেম কেনার জন্য যথেষ্ঠ পরিমাণ টাকা নিয়ে বসে আছি। আর কোনদিন কাটে একদম হাতখালি অবস্থায় অথচ আমার চারদিকে নিউজ আর নিউজ। মার্কেট চড়া থাকলে দ্বিতীয় অবস্থার আর মন্দা মার্কেটে প্রথম অবস্থার শিকার হই। চড়া মার্কেট এ মনের অবস্থা ভাল থাকবার কথা অথচ তখন মন খুব খারাপ থাকে, কারণ শেয়ারে শেয়ারে সব অর্থ লগ্নি করে বসে রয়েছি কিন্তু সোর্স বিভিন্ন আইটেমের খোঁজ দিয়ে চলেছে নতুন আইটেম কিনতে পারছিনা। মন্দা মার্কেটেও অবস্থা তথৈবচ। অর্থাৎ মন খারাপ। তারমানে বিজনেসে মন সর্বদা খারাপই থাকছে। এটিকে অবশ্য খারাপ না বলে উচাটন বলা যেতে পারে। লসের কারণে আমি অত্যধিক উত্তেজিত থাকিনা। এটি দীর্ঘদিনের অভ্যেসে গা সওয়া হয়ে গিয়েছে। ২০০৭ সালের একটা আইটেম। ট্রেড ব্লক করে দিয়েছে আমার সহ আমার বন্ধুু বান্ধবীদের সবাইর ই মাথায় হাত। কিন্তু কিছু করার নেই ট্রেডিং নাই লস দিয়ে যে বের হবো সে উপায়ও নেই। সেই শেয়ার ২০০৭ এর পর এই ২০১০ এ এসে আলোর মুখ দেখলো। মজার ব্যাপার হলো সেই শেয়ার এই পর্যন্ত আমাকে ২০০% বোনাস শেয়ার উপহার দিয়েছে, এই উপহার কি ২০০৭ এ পেতাম? তাই মাইনকা চিপার কারণে শেয়ারটা ধরে রাখলেও এটাকে এখন আশীর্বাদ শেয়ার হিসেবেই দেখছি। উল্টোদিকও আছে। এবং এটাই বেশিবার সংঘটিত হয়েছে। পাক্কা নিউজ, আমার বস বলেছে এটি কিনলে নিশ্চিত লাভ। লসের কোন কারণ নেই। কিনলাম, বন্ধু-বান্ধবদেরও কিনতে বললাম। কেনার পর দিন থেকে দাম শুধু কমে আর কমে। মাথায় হাত। এখনো মাথায় হাত দিয়ে বসে আছি।
৯৬ এর বাজারে আমি ছিলাম না। আমার দুই সিনিয়র ভাই এক ঘরোয়া আড্ডায় সেই বাজার নিয়ে মজার সব গল্প করছিলেন। একটি বলি। তখন ছিল কাগজের শেয়ার। সেই বাজারে বিভিন্ন কোম্পানীর শেয়ার সার্টিফিকেট হাতবদল প্রক্রিয়া অনেকটা পিলো পাসিং এর মতো হয়ে গিয়েছিল। কেউ শেয়ার সার্টিফিকেট হাতবদল করতে পারলেই লাভবান হয়ে উঠছিলেন, ঘুরতে ঘুরতে যাদের হাতে শেয়ার আটকে যায় তারা খান রাম ধরা। সেই শেয়াররূপী কাগজের আজ কোন দাম নেই।
বর্তমানের বাজারকে কোন ভাবেই মার্কেট ইকোনমির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বাজার বলা যাবে না। শেয়ার বাজারে অত্যধিক তেজীভাব আর্থিকবাজারে যথেষ্ঠ সমস্যা সৃষ্টি করছে। এইধরণের বুল মার্কেট বেরিশ বা মন্দাভাবের কবলে পড়বে যে কোন সময়। ভাল ফান্ডামেন্টালের শেয়ারের দাম বাড়ছেনা চিপ শেয়ারের দাম কোন কারণ ছাড়াই বেড়ে যাচ্ছে। স্পেকুলেশনের তোয়াক্কা না করে বাই সেল হচ্ছে। জানি না এই ধরণের অবস্থা কোন খাদের কাছে আমাদের নিয়ে যাবে।
যাই হোক কাউকে আতঙ্কগ্রস্থ করার জন্য এই লেখা নয়। বাজারে যারা আছেন এবং যারা আসছেন তারা কিছু দরকারী তথ্য মাথায় রেখে শেয়ারে আপনার অর্থ লগ্নি করবেন।
সাতটি জিনিসের উপর জ্ঞান রাখতে হবে- পেইড আপ ক্যাপিটেল, ক্যাপিটেল গেইন অব মার্কেট, আর্ণিং পার শেয়ার, ডিভিডেন্ড পার শেয়ার, প্রাইস বুক ভ্যালূ রেশিও, রাইট/বোনাস শেয়ার, প্রাইস আর্ণিং রেশিও, ডিভিডেন্ড ইয়েল্ড, ডিভিডেন্ড পেমেন্ট রেশিও। এছাড়াও মনে রাখতে হবে।
১)বর্তমানে কোম্পানী যে প্রতিযোগিতায় সম্মুখীন হচ্ছে এবং সামনে হতে কি প্রতিযোগিতায় তারা পড়তে পারে তা নীরিক্ষণ করতে হবে।
২)কোম্পানী কর রেয়াতী সুবিধা ভোগ করছে কি না, কোম্পানীর সংরক্ষিত তহবিলের পরিমাণ, তাদের বছরান্তের ডিভিডেন্ড দেবার রীতি, মুদ্রা সরবরাহ, আর্থিক নীতি এবং সুদের হার সম্পর্কে জানতে হবে।
৩)কোম্পানীর উদ্যোক্তা পরিচালকরা ঋণ খেলাপি বা অন্য কোন আর্থিক অনিয়মের সাথে জড়িত কি না সে সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।
৪)কোম্পানীর যদি দেশী-বিদেশী যৌথ মালিকানা থাকে তা হলে ব্যবস্থাপনায় বিদেশী ফার্মের নিয়ন্ত্রণ কতটুকু এগুলো বুঝতে হবে।
৫)কোম্পানী যদি দেশী-বিদেশী মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত হয় তা হলে বিদেশী বিনিয়োগকারীর একসাথে বেশী শেয়ার বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে কি না তা খেয়াল রাখতে হবে।
শেয়ার ব্যবসা মানে ফটকা ব্যবসা। কিন্তু বর্তমানে বিনিয়োগের প্রচন্ড আকালের অবস্থায় এই ব্যবসায় সবার আগ্রহর সূচক প্রতিদিনই বাড়ছে। ব্যাপক সংখ্যক লোকের আগমণে এই ব্যবসাই এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।



সুত্র

শেয়ার বাজার সম্পর্কে জানতে কিছু দরকারী বই

5621 শেয়ার বাজার সম্পর্কে জানতে কিছু দরকারী বই | Techtunes
সাম্য ভাইয়ের “শেয়ার বাজারের অ, আ, ক, খ” শিরোনামের টিউনটি দেখে এই টিউনটি করার অনুপ্রেরণা পেলাম। সন্দেহ নেই শেয়ার বাজার এখন আমাদের অনেকেরই ব্যস্ততার কারণ। আর হবেই বা না কেন? মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আমাদের সবার অর্থনৈতিক অবস্থার যে করুণ হাল। শেয়ারে সৎ পথে দুটা পয়সা আসলে ভালই তো। তবে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের আগে বা সাথে সাথে এই স্টক এক্সচেঞ্জ আর শেয়ার সম্পর্কে কিছুটা জেনে নেয়া উচিত। সবচেয়ে ভাল হয় আপনি যদি ব্যাপারটা অভিজ্ঞ কোন বন্ধু বা আত্মীয়ের কাছ থেকে হাতে-কলমে শিখে নিতে পারেন। তবে আমাদের জীবনযাত্রার যে অবস্থা তাতে এতটা সময় আপনাকে অনেকে নাও দিতে পারে। তাই চেষ্টা করুন নিজে নিজে কিছু জানার। নিচে কিছু বইয়ের লিংক দিলাম, আপনাদের কাজে লাগতে পারেঃ
Fundamentals of Stock Market
How to Profitably Trade the Share Market in any Market Condition
How To Make Money In Stocks
Stock Investing For Dummies
Stock Market Essentials
Mental Fitness for Traders
If You’re Clueless About the Stock Market and Want to Know More
7 Habits of a Highly Successful Trader
How to Win the Stock Market Game
উপকৃত হলে জানাবেন।
* নীল আকাশ ভাইয়ের দেয়া School of Pipsology বইটার দুটি ভার্সন পেলাম। লিংক এখানে এবং এখানে

ঢাকার শেয়ার বাজার কোন শেয়ার এর মুল্য বাড়বে বুঝবেন কিভাবে? সহজ কৌশল!


আমরা কিন্তূ জানি একটা কোম্পানীর শেয়ার ‘আনলিমিটেড’ না।
নিদিষ্ট…………।।

তার মধ্যে আবার পাবলিক এর হাতে কিছু ‘ডিরেক্টরদের’ হাতে কিছু আর
‘ফরেইনার’ হাতে কিছু…… তা ও নিদিষ্ট……
এই শেয়ার এর সংখ্যা বাড়তে হলে
রাইট শেয়ার,প্রিপারেন্স শেয়ার,বোনাস শেয়ার
ইস্যু করে কোম্পানি।
এখন দেখি শেয়ারের দাম কেন বাড়ে…………
মনে করেন একটা কোম্পানির মোট ১ লাখ শেয়ার ‘সেকেন্ডারি’মারকেটে পাবলিকের
হাতে আছে……।
ধরে নিলাম ১৫ দিনের এভারেজ ভলিয়ম ৫০০০
মানে শেয়ারটা ৫০০০ সংখ্যক কেনাবেচা হচ্ছে

এখন
শেয়ারের সাপ্লাই মাত্র এক লাখ
কেনাবেচা হচ্ছে এভারেজে ৫০০০
কি করে বুঝবো্ দাম বাড়বে না কমবে……
এর একটা সহজ উপায় আছে
আমরা যারা TA বুঝি

তারা এভারেজ প্রাইস,এভারেজ ভলিউম বুঝি
Avarage price= গড় দাম
Avarage volume= গড় লেনদেন কৃত শেয়ার সংখ্যা

ধরুন আমরা একটা শেয়ারের ১৩দিনের গড় দাম রেখা নিলাম
আর একটা ১৫দিনের গড় ভলিউম রেখা নিলাম

যখন আমরা দেখব যে প্রাইস ১৩দিনের গড় দামকে অতিক্রম করেছে
আর ভলিউম ১৫দিনের ভলিউমকে ছাড়িয়ে গেছে অনেক গুন
তখন আমরা
বুজতে পারব ‘Demand exceeding Supply’ শেয়ারটার buyer বেশী Seller কম,

Technically এটা একটা ‘বাই’ BUY সিগন্যাল
আমরা MACD Moving Average Convergence Divergence Histogram নিয়ে
Confirm হতে পারব এই দাম বাড়া কমা ……..

নিচে একটা ছবির মধ্যে বুঝি্য়ে দিলাম……….
http://screencast.com/t/ZDllMTVkYWQ
এটা সেভ করে রাখুন।
আমাদের ফেসবুকে লগইন করুন
২৪০০ শেয়ার ইনভেসটরদের সাথে পরিচিত হোন।
Click This Link

শেয়ার বাজার-১৩ ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস, টেকনিকাল এনালাইসিস: সহযোগী না প্রতিদ্ধন্ধী ?

ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস (FA) ও টেকনিকাল এনালাইসিস (TA) শেয়ার মার্কেটে বিনীয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিত দুটি ডিসিশন সাপোর্ট টুল। শেয়ার বাজার নিয়ে আমি নিয়মিত লিখি সামুতে, তাই এ সম্পর্কিত অন্যান্য লেখকের লেখাও পড়ি নিয়মিত।

আজ সৌভাগ্যা ক্রমে পর পর ৩ টা লেখা পড়লাম, যা মূলত টেকনিকাল এনালাইসিস (TA) এর খারাপ ভাল দিকগুল নিয়ে লেখা হয়েছে। এ সম্পর্কিত নিজস্ব মতামত তুলে ধরাই আজকের লেখার মূল্য উপলক্ষ। তাহলে আসুন আগে দেখি FA,TA কি জিনিস-

ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস (FA): মূলত কম্পানির ফিনানসিয়াল ফান্ডামেন্টাল তথা লাভ-লোকশান/আয়-ব্যায়কে কেন্দ্র করেই এ ধরনের এনা লাইসিস করা হয়। আমার ব্লগে শেয়ার বাজার সম্পর্কিত সব লেখাই এ ধরনের এনালাইসিসের ভিত্তিতে লেখা। তাই পাঠেক মাত্রই জানেন কি ভাবে এই টেকনিক কাজ করে।

টেকনিকাল এনালাইসিস (TA): এটি একটি স্টেটিস্টিকাল টেকনিক যা মূলত বাজারে শেয়ারের মূল্য ও চাহিদার আনুপাতিক হার দ্বারা নিয়ন্ত্রীত। যেহেতু ব্লগার তৌফিক কামাল অলরেডি এটা নিয়ে আলাদা পোস্ট দিয়েছেন তাই পাঠকগন ঐ ব্লগ থেকেই বিস্তারিত জানুন। সময় সল্পতা ও লেখার আকার সীমিত রাখার জন্য বিস্তারিত আলোচনায় গেলাম না।

যারা ঐ পোস্টটি পড়েছেন তারা নিশ্চই অবাক হচ্ছেন কী সহজেই না গ্রাফ/চার্ট দেখে শেয়ার কেনা-বেচা করা যায়। সংক্ষেপে বললে সিসটেমটা এমন " ৫-৬/১০-১৫ দিনের এভারেজ মূল্য ও ট্রেড ভলিউমের চাইতে এখন কার মূল্য ও ভলিউম বেশী হলেই বাই আর তা কমতে শুরু করলেই সেল। "

টেকনিকটা যে কার্যকরী এ ব্যাপারে কোন সন্ধেহ নেই কিন্তু সমস্যা হল এর ব্যাবহারকারী। ছবি ত সবাই তুলতে পারে কিন্তু আমার আর একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারের হাতে একই কেমেরা থাকলেও ছবির মান যে আকাশ-পাতাল হবে তা বলাই বাহুল্য। তবে আমি কিন্তু খারাপ ছবি তুলি না Click This Link :)

টেকনিকাল এনালাইসিস (TA) এর সীমাবদ্ধতা ও কুফল সম্পর্কে ব্লগার হা হা পোস্ট করেছেন আজ। আর এই পোস্টের কাউন্টার পোস্ট ও এসেছে একই দিনে। আমি বরং টেকনিকাল এনালাইসিস (TA) এর সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আরো বিস্তারীত আলোচনা করি।

প্রথকেই কিছু প্রশ্ন করি, TA যারা বুঝেছেন তাদের জন্য

১। বর্তমান মূল্য ও ট্টেডিং ভলিউম গড় মূল্য ও গড় ট্টেডিং ভলিউমের চেয়ে বেশী হলেই শেয়ার কিনতে হবে। কেন এই বৃদ্ধি তা কি কেউ ভেবেছেন ?

২। ঠিক কতটুকু বেশী হলে/ কমলে আপনি ক্রয়-বিক্রয় শুরু করবেন ?


১ এর জবাবে অনেকেই বলবেন, দাম ও ক্রয়-বিক্রয় বৃদির পেছনের কারন চাহীদা বৃদ্ধি :)। তাদের জন্য সম্পূরক প্রশ্ন এই চাহিদা কে সৃষ্টি করল গেম্বাররা না কি কম্পানির আর্থিক ভিত্তি ?
২ এর জবাবে অনেকে হয়ত বলবেন, ১০-১৫% বৃদ্ধি পেলেই কিনতে হবে আবার ১০-১৫% কমে গেলে বিক্রি।

এবার আসুন একটা উদাহরন দেখি -

কম্পানি : ক (কোন কল্পিত কম্পানি নয়, নীতিমালার কারনে নাম ডিসক্লোজ করা গেল না )
কেটাগরি: IT Sector - মাত্র ৫ টি কম্পানি রয়েছে এই কেটাগরিতে সুতরাং তা মেনুপুলেট করা তুলনামূলক সহজ

Last Trade 50.00
52 Week's Range 26.5 - 88.9 - দাম বেশ ফ্লাকচুয়েট করে
Face Value 10.0
Market Lot 500
Market Category A - ভাল
Electronic Share Y - ভাল
Total no. of Securities 22853600
Share Percentage: Sponsor/Director 52.24 Govt.0 Institute 0 Foreign 0 Public 47.76
Total no. of Securities 22853600
মানে প্রায় ১,০৯,৬৭, ৯২৮ (Total no. of Securities*Share Percentage) টি শেয়ার ও ২১,৯৩৯ টি লট (১,০৯,৬৭, ৯২৮/৫০০) রয়েছে সাধারন বিনিয়োগকারীর হাতে। অর্থাৎ বেশ ভাল ভাবেই একে মেনুপুলেট করা সম্ভব।

এখন যদি কোন গ্রুপ সেই ২১,৯৩৯ টি লটের ২০% কম দামে কিনে এবং আরো ৫-৭% লট গড় মূল্যের চাইতে বেশী দামে কেনা শুরু করে (ধরুন ৫-২০ ট্রেডিং ডে এর মধ্যে কিনবে) তা হলে কিন্তু আমাদের এই টেকনিকাল এনালাইসিস (TA) ঠিকই বাই সিগনাল জেনারেট করবে। যদিও এই চাহিদা বৃদ্ধি মেনুপুলেটেড :)। দু:খজনক হলেও সত্য যে MACD গ্রাফ, Candle stick গ্রাফের সাধ্য নেই এই ম্যানুপুলেশনকে ইনডিকেট করার । তাই গ্রাফ দেখে আপনি যখন কিনতে শুরু করবেন, ঐ গ্রুপ তখন কেনা থামিয়ে দিয়ে হাতে থাকা ২০% লটগুল বিক্রি শুরু করবে আপনার কাছে।

আর যেহেতু গড় মূল্যের ১০-১৫% বেশি দামে আপনি শেয়ার কিনছেন সেহেতু আপনি বড় রিস্ক নিচ্ছেন কারন এই দাম কম্পানির আর্থিক ভিত্তি দ্বারা সাপোর্টেড নয়। ফলে শেষ দিকের বিনিয়োগকারীরা মিনিমাম ২০-২৫% ক্ষতির স্বীকার হবেন।


তাই টেকনিকাল এনালাইসিস (TA) ফলো করার আগে জাচাই করুন এই চাহীদা বৃদ্ধির কারন। যদি এটা কম্পানির আর্থিক লাভের পরিমান দ্বারা ট্রিগার্ড না হয়ে থাকে তবে শত হাত দূরে থাকুন ঐ শেয়ার থেকে (TA যতই বাই সিগনাল জেনারেট করুক না কেন :) )


আমার ব্যাক্তিগত মতামত হল টেকনিকাল এনালাইসিস ব্যাবহার করুন আপনার বিনীয়োগের সময়কাল কমিয়ে আনতে তবে অবশ্যই দেখুন এই চাহীদা বৃদ্ধি যেন কম্পানির আর্থিক ভিত্তি দ্বারা সাপোর্টেড হয়। তাহলে সেলিং সিগনাল মিস করলেও দুশ্চিন্তা নেই কারন আর্থিক ভিত্তি আপনাকে সুরক্ষা দেবে। আর কম্পানির আর্থিক ভিত্তি নিরুপনের জন্য ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস (FA) হল সব চেয়ে গ্রহনযোগ্য উপায়।

নতুন বিনিয়োগকারীদের প্রতি অনুরোধ, অন্ধ হয়ে TA এর পেছনে ছুটবেন না, আগে অ-আ শিখুন পড়ে ক-খ নইলে অল্প বিদ্যা ভায়ঙ্করী হবার সমুহ সম্ভাবনা আছে। আর যারা টেকনিকাল এনালাইসিস শেখাচ্ছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ ভাল দিকগুলর পাশাপাশি এর খারাপ দিকগুল ও বলুন। নতুন দেরকে সচেতন করুন অন্ধ অনুকরন করতে শিখিয়েন না। কি এবং কোন কারনে বাইং সিগনাল জেনারেট হল এবং কে আপনি তা ফোলো করছেন তাও বলুন। আর ব্লগার তৌফিক কামালকে উদ্দেশ্য করে বলছি-

আপনার ব্লগ ও ফেসবুক একাউন্ট দেখলাম; আপনি এমন সব স্পেকুলেটিভ তথ্যা ব্লগ ও ফেসবুকে দিচ্ছেন যা ডিএসইর আইনে নিষিদ্ধ। ইতিমধ্যেই অনেক ব্লগ, ফোরাম ও ওয়েব সাইট বন্ধ করে দিয়েছে রেব। ৬ মাস আগে ৩ জনকে গ্রেফতার ও ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে। তাই যা করবেন আইন মেনেই করুন।

শেয়ার এনালাইসিস এ নতুন টেকনিক (ইনভেস্টর মাইন্ড এনালাইসিস)

আমরা সাধারনত স্টক এনালাইসিস এর ক্ষেত্রে দুটি এনালাইসিস নাম শুনে থাকি।
১। ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস
২। টেকনিকেল এনালাইসিস।
কিন্তু আজ আমি আপনাদের আর একটা পদ্ধতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেব। যেটা একেবারেই আমার নিজের তৈরি টেকনিক। আমি এই অ্যানালাইসিসের নাম দিয়েছি ইনভেস্টর মাইন্ড এনালাইসিস।(এটা অনেকটা টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের মতই) যেহেতু এটা একটা নতুন ধরনের এনালাইসিস তাই আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে আমি কিছু বিষয় নিয়ে একটু আলোচনা করব।

Facebook এর সুবাদে একজন বড়ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় হয় (জাহাঙ্গীর)। তিনি অল্প কিছুদিন ধরে শেয়ার বিজনেসের সাথে জড়িত। শেয়ার বিজনেস সম্পর্কে তিনি ততটা ভাল বোঝেন না (ওনার কথা মতে) তাই তিনি মাঝেমাঝে ফোন করে আমার কাছে পরামর্শ নিয়ে থাকেন। # একটা কথা বলে নেই, যারা শেয়ার বিজনেসে নতুন আশে তারা টেকনিক্যাল বা ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস বোঝেন না তারা সুধু বোঝে (টি-৩ আইটেম) ৪-১০ দিনে জন্য ইনভেস্ট করে প্রফিট নেয়া।তারা চিন্তা করে আমি যেদিন থেকে শেয়ার কিনব সেদিন থেকেই দাম বাড়া শুরু করবে। তাদের এই ধারনা আশার করন হল, নতুন বিনিয়োগ কারি তখনই বিনিয়োগ করে যখন বুলিশ মার্কেট থাকে।তখন তার বুঝে না বুঝে যে শেয়ারই ইনভেস্ট করে সেটারই দাম বাড়তে থাকে এবং এটা দেখে তারা তাদের পুজি আর বাড়ায়।কিন্তু বাস্তবতা হল মার্কেট এভাবে বেশী দিন চলতে পারেনা।যথারিতি মার্কেট যখন কারেকশন শুরু হয়, তখন ঐ যে নতুন যারা না বুঝে ইনভেস্ট করেছিল তারা মাথায় হাত দিয়ে হা-হুতাস করতে থাকে। তারা টি-৩ তে যা প্রফিট করে ছিল মার্কেট কারেক্শনের কারনে তার আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না।তখন তারা অস্থির হয়ে একটা ছেড়ে আর একটা কিনতে থাকে এতে তারা আরও লস করতে থাকে। কিন্তু তারা যদি স্থির হয়ে বসে থাকত তাহলে অল্প কিছুদিনের মাঝেই লস টা কাটিয়ে উঠতে পারত।আমার মাইন্ড এনালাইসিস টেকনিক এ ঐ সকল ইনভেস্টর দের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

৫-১০ দিনের জন্য ইনভেস্ট করাকে আমি শেয়ার বিজনেস বলিনা এটা হল লটারি অথবা গেইম খেলা। কিন্তু শেয়ার বিজনেস লটারি কিংবা গেইম খেলার জায়গা না। এখানে মেধা দিয়েই বিজনেস করতে হয়। একটা কথা মনে রাখবেন, না বুঝে ইনভেস্ট করে হয়ত আপনি সাময়িক ভাবে লাভবান হতে পারবেন কিন্তু Long Term এ এটা কখনও ই ভালহতে পারেনা। আমি কখনও ই এই গেইম টাকে সাপোর্ট করিনা। কিন্তু তারপর্ ও আমাকে মাঝে মাঝে এই গেইম এ অংশ গ্রহন করতে হয় কারন এটা বাংলাদেশি শেয়ার বাজার এখানে FA/TA সব সময় কাজ করেনা। ইনভেস্টমেন্ট সাধারনত তিন ধরনের হয়ে থাকে...
১। Long term (FA) TA News Mind
২।Mid term (FA/TA)
৩।Short term (TA)
কিন্তু আমার এনালাইসিস অনুযায়ি আর ২টা আইটেম যোগ করতে চাই
৪। Short term-২ (News)
৫। Short term-৩ (Mind Analysis)

বুধবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১০

যে শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ ।

এই কৌশলটি বিনিয়োগকারী ও ডে-ট্রেডার উভয় শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের জন্য প্রযোজ্য। একজন বড় মাপের শেয়ার ব্যবসায়ী যদি হতে চান আপনাকে কম সময়ে বেশী লাভ করার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আর্থিক ঝুঁকির মাত্রাও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে এমন শেয়ার চিহিৃত করতে হবে। নিম্ন লিখিত বিষয়সমূহের আলোকে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার সমূহ কে বিবেচনার বাহিরে রাখতে পারেন।

১.যে শেয়ার সমূহের দাম সাধারণত বেশী হারে হ্রাস বৃদ্ধি হয় না।
২. যে শেয়ার সমূহ র্দীঘ দিনের ব্যবধানে লেনদেন হয়।
৩. যে শেয়ার সমূহ অতিমূল্যায়িত।
৪. এক সময়ের জনপ্রিয় শেয়ার কিন্তু বর্তমানে ঐ শেয়ারের চাহিদা নেই বা দরের হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না অথবা সন্তোষজনক লভ্যাংশও অন্যান্য প্রাপ্তির সম্ভাবনা নেই এমন শেয়ার।
৫. যে শেয়ার সাম্প্রতিক সময়েও লাভজনক ছিল কিন্তু ভবিষ্যতে লাভ অর্জনের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হচ্ছে।
৬. যে শেয়ারসমূহের দাম সাধারণত বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয় এবং সেই সময় আসতে এখনও অনেক দেরী।

শেয়ারের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কিছু কারণ ।

শেয়ারের দাম বৃদ্ধির অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কিছু কারণ হলোঃ

১. কোম্পানির আয় বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতে কোম্পানির অবস্থান আরো টেকশই হবার লক্ষণ।
২. কোম্পানির বিক্রী বৃদ্ধি এবং বৃদ্ধির ক্রমবর্ধমান ধারা টেকসই হওয়ার লক্ষণ, টেকশই বাজারের নিশ্চয়তা, অনুকূল ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা, পন্যের গুণগতমান।
৩. লভ্যাংশ ও অন্যান্য প্রদানের ত্রেসহ কোম্পানির ব্যবস্থাপনাতে সন্তুষ্টি।
৪. সংরক্ষিত তহবিলে টাকার পরিমান বৃদ্ধি ও শেয়ার প্রতি সম্পদ এবং শেয়ার প্রতি আয় বৃদ্ধির কারণে বোনাস শেয়ার বা আকর্ষণীয় লভ্যাংশ প্রদানের সম্ভাবনা ।
৫. কোম্পানির উৎপাদন বৃদ্ধি কর্মসূচী গ্রহন অথবা নতুন কোন ইউনিট স্থাপন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ।
৬. বার্ষিক সাধারণ সাভা ও লভ্যাংশ ঘোষনার সময় এগিয়ে আসা এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনার প্রতি আস্থা।
৭. রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা।
৮. কোম্পানির উৎপাদন বহুমুখীকরণ কর্মসূচি গ্রহন।

যারা শেয়ার বাজার নিয়ে আগ্রহী তারা একটু সময় নিয়ে এই সাইটিতে চোখ বুলাতে পারেন। শেয়ার ব্যবসা শেখার সকল বিষয় এখানে পাবেন।
শেয়ার এডুকেশান

শেয়ার ব্যবসা কেন করবেন?

শেয়ার ব্যবসা হচ্ছে এমন একটি ব্যবসা যার জন্য আপনাকে দৈনিক খুব কম সময় ব্যয় করলেই চলবে। শেয়ার ব্যবসার জন্য প্রচুর মূলধন প্রয়োজন নাই। শেয়ার ব্যবসা অপোকৃত কম সময়ে শেখা যায় এবং সেখান থেকে নিয়মিত ভাবে বেশী পরিমান উপার্জন করা সম্ভব। অন্য যে কোন পেশায় থেকেও শেয়ার ব্যবসা করতে কোন বাধা নাই। তাহলে এমন একটি ব্যবসা থেকে ভালো ব্যবসা কি সম্ভব? বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ এই ব্যবসাতে ঝুঁকে পড়ছে, কেউ খন্ডকালীন বা কেউ র্পূণকালীন ভাবে, এবং তারা প্রচুর উপার্জন করছে। আমাদের দেশেও বিনিয়োগকারীর সংখ্যা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। শেয়ার বাজার হলো সৎভাবে কম সময়ে ধনীহওয়ার চমৎকার একটি মাধ্যম। তাহলে আপনার যদি শেয়ার বাজার সম্পর্কে ধারনা থাকে এবং কিছু পুঁজি থাকে তাহলে কেন শেয়ার বাজার থেকে দূরে থাকবেন?

শেয়ার ব্যবসা কি জুয়া খেলার মতো কিছু?

না। শেয়ার ব্যবসা মোটেই জুয়া খেলার মতো ভাগ্য নির্ভর কিছু নয়। যারা শেয়ার ব্যবসাকে জুয়া খেলার সাথে তুলনা করে মূলত তারা শেয়ার ব্যবসা সম্পর্কে কোন ধারনাই রাখেন না। শেয়ারের দর উঠানামা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য, বিভিন্ন সূত্র থেকে বিভিন্ন আঙ্গিকে সংগ্রহ করে হিসাব বিজ্ঞান, অর্থনীতি শাস্ত্র, পরিসংখ্যান ও মনোবিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন জ্ঞানের আলোকে ঐ তথ্যাবলি বিভিন্ন ফর্মুলা ও কৌশলে বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞগন কর্তৃক সম্ভবনার হিসেবে করা হয়। সুতরাং শেয়ার ব্যবসাকে কোন ভাবেই জুয়া খেলার সাথে তুলনা করা সমীচীন নয়।

শেয়ার ব্যবসায় ঝুঁকি কি করে কমানো যায়?

একজন বিনিয়োগকারীর প্রধান করণীয় হচ্ছে বিনিয়োগের পূর্বে বিনিয়োগ সম্পর্কে সঠিক ভাবে অবহিত হওয়া। যেখানে বিনিয়োগ করবেন সেখানে কী ধরনের ঝুঁকি আছে বিবেচনায় নেয়া এবং বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত আসার সম্ভাবনা আছে এমন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা। এছাড়াও বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট আইনকানুন সম্পর্কেও ভাল ধারনা ও বিনিয়োগকারীর অধিকার সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে।
ঝুঁকি কমানো যায়, তবে ঝুঁকি থেকে মুক্তির কোন উপায় নাই। শুধু বোকার মতো পোর্টফোলিওতে বিভিন্নতা আনলেই ঝুঁকি কমবে না। শেয়ারের উচিৎ দর জানা সম্ভব হলে এবং সঠিক দরে সঠিক সময়ে শেয়ার ক্রয় করা সম্ভব হলে ঝুঁকির মাত্রা থাকে খুবই কম। শেয়ার প্রতি আয় বেশী হলে ভাল লভ্যাংশ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার আয় কম হলে বা লোকসান হলে লভ্যাংশ কম পাওয়ার বা লভ্যাংশ নাও পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোম্পানির কয়েক বছরের তুলনামূলক লাভ-তির বিবরনী থেকে শেয়ার প্রতি আয়সমূহসহ অনেক গুরুত্বপুর্ণ তথ্য জানা যেতে পারে। বিনিয়োগ করার পূর্বে কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল ও টেকনিক্যাল বিশ্লেষণের ওপর মুল্যায়ন করে শেয়ার ব্যবসায় বিনিয়োগ করা উচিৎ। তাহলেই ঝুঁকির মাত্র অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

জুয়াড়ি চক্র সক্রিয়। এই লেখাটি পড়ুন, কাজে লাগবে।

শেয়ার বাজারে ব্যবসা করে যেমন ধনী হ্ওয়া যায় তেমনি ফকির হওয়াও খুব সহজ। ধনী হতে হলে শুধুমাত্র নিজের মাথাটাকে একটু খাটাতে হবে আর ফকির হতে চাইলে না বুঝে শেয়ার কিনলে অথবা গুজবে কান দিয়ে জুয়াড়ি চক্রের হাতে ধরা খেলেই চলবে।

আমি দুটো নিয়মই আপনাদের দেখিয়ে দিচ্ছি, আপনি কোন পথে হাঁটবেন সেটা আপনার ব্যপার।

ধনী হতে চাইলে: আপনি শেয়ার ব্যবসা করে ধনী হতে চাইলে একটাই উপায় আর তা হলো ফান্ডামেন্টাল বুঝে বিনিয়োগ করা, ফান্ডামেন্টাল বুঝে বিনিয়োগ করা এবং ফান্ডামেন্টাল বুঝে বিনিয়োগ করা। এর বাইরে আর কিছু নাই। ফান্ডামেন্টাল বুঝে বিনিয়োগ করলে আপনি কখনই সর্বস্ব হারাবেন না। শেয়ারের মূল বৃদ্ধির অনেক গুলো কারণ আছে। সব কারণের বড় কারণ হল কোম্পানী ভাল লাভ করা। যেমন আপনাদের একটি উদাহরণ দিচ্ছি। লক্ষ করুন- RNSPIN: As per un-audited half yearly accounts as on 30.06.10 (Jan' 10 to June' 10), the company has reported profit after tax and dividend on preference shares of Tk. 204.89 million with EPS of Tk. 19.14 as against profit after tax of Tk. 79.23 million and EPS of Tk. 7.40 (restated) for the same period of the previous year.

কি বুঝলেন? আরএনস্পিন গতমাসের ২৭ তারিখ এই রিপোর্টের মাধ্যমে জানিয়েছে যে তাদের অর্ধবার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী তারা এই বছরের প্রথম ৬ মাসে আয় করেছে ২০৪.৮৯ মিলিয়ন টাকা। যা গত বছরের প্রথম ৬ মাসে ছিল ৭৯.২৩ টাকা। এখন বুঝতে পারছেন তাদের আয় কত ভাল হয়েছে? এই রিপোর্ট দেয়ার পর আমি আরএনস্পিন কিনেছি ৪৪৯ টাকা করে। যা গতদিন শেষ হয়েছে ৬১৮.৭৫ টাকায়। এখন আপনারা বলুন আমি মাত্র ১ সপ্তাহের ব্যবধানে কত টাকা লাভ করেছি।:D

এর মানে এখন বুঝতে পেরেছেন? এর মানে হলো কোম্পানী ভাল লাভ করলে শেয়ারের দাম বাড়ে। আশা করি বিষয়টি পরিষ্কার। আর যদি সন্দেহ থাকে তবে ইউনাইটেড ইন্সুরেন্স এর শেয়ারের দিকে লক্ষ করুন। তাদেরও একই অবস্থা।

ফকির হতে চাইলে: আগেই বলেছি ফকির হতে চাইলে না বুঝে শেয়ার কিনতে হবে অথবা জুয়াড়িদের পাল্লায় পা দিতে হবে। জুয়াড়িরা কি করে শেয়ার ব্যবসা করে সেটা কি জানেন? তারা দুর্বল মৌলভিত্তির শেয়ার অথবা শেয়ার সংখ্যা কম এমন কোম্পানীকে টার্গেট করে। তারপর তারা নিজেরা শেয়ার কিনে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়াতে থাকে। আর দাম বাড়তে থাকলে বোকারা সেই শেয়ার কেনা শুরু করে। তখন জুয়াড়িরা তাদের কেনা শেয়ার বোকাদের কাছে বিক্রি করে বেরিয়ে আসে। এরপর শুরু হয় দরপতন আর বোকারা বসে বসে কাঁদে।

আজ সকালে একটি পোষ্ট এসেছে। পোষ্টটি আগে দেখুন।

এখানে লেখক কিছু ''টেকনিক্যাল'' অ্যানালাইসিস দিয়েছেন। কোন শেয়ারের দাম বাড়বে তা বুঝাতে চেয়েছেন। তাদের হিসাব ঠিক আছে। :) কিন্তু খেয়াল করে দেখুন সেই হিসাব মতো আপনি যখন শেয়ার কিনতে যাবেন কখন কিন্তু শেয়ারের দাম অলরেডি বেড়ে গেছে। এখন আপনি যদি শেয়ার কিনেন তবে হাতে হারিকেন নিয়ে বাজার থেকে বের হয়ে আসতে হবে। কারণ তারা যে শেয়ারগুলো কিনে দাম বাড়িয়েছে সেগুলো তখন আপনার কাছে বিক্রি করবে? বিষয়টি কি এখন আপনার কাছে পরিষ্কার?
সবচে মজার ব্যপার হলো সেই পোষ্টে আমি কমেন্ট করার পর আমাকে হেয় করে কয়েকজন মন্তব্য করেছে। আমি সেগুলো দেখ শুধু হেসেছি। কারণ তাদেরকে শেয়ার নিয়ে কখনও লিখতে দেখিনি। আরো মজার ব্যপার হলো লেখক আমাকে বলেছেন যে তিনি ২ সপ্তাহ আগে আফতাব অটোর শেয়ারের দাম বড়বে তার ভবিষ্যৎ বাণী করেছেন এবং সত্য হয়েছে। উনার লেখা পড়ে আমি হাসতে হাসতে শেষ। :D:D:D কেন জানেন? কারণ উনি ২ সপ্তাহ আগে জেনেছেন আফতাব আটোর দাম বাড়বে আর আমি আরো ৪/৫ মাস আগে থেকে জানি। :D কিভাবে জানলাম? সেই একই কাহিনী, আফতাব অটোর অর্ধবাষিক প্রতিবেদনটি দেখুন। আফতাব অটো এক্সস্ট্রাঅর্ডিনারি ইনকাম করেছে। সেই রিপোর্ট দেখে আমি তখনই আফতাব অটোর শেয়ার কিনে রেখেছি। এখন আমার লাভের পরিমান করত জানেন? ৭৫.৯৪% ।ইনশাল্লাহ ১০০% এর বেশী লাভে বিক্রি করব। :DB-)

বর্তমানে আমার কাছে ৬টি কোম্পানীর শেয়ার আছে। সব শেয়ারে আমি ভাল লাভে আছি শুধুমাত্র ফান্ডামেন্টাল দেখে কিনেছি বলে। এখন আপনারাই বলুন ফান্ডামেন্টাল শেয়ার কিনে লাভবান হতে চান নাকি জুয়াড়িদের কথা শুনতে চান।

আরেকটি কথা। উনারা যেভাবে শেয়ার বাজার নিয়ে কথা বলেন এটা কিন্তু সম্পূর্ণ বেআইনি। কিছুদিন আগে এমন ভবিষ্যত বানী করার কারণে একজনকে একজনকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে।

শেয়ার ক্যাটাগরী

ভাল শেয়ার কিভাবে চিনবেন তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমি শেয়ার ক্যাটাগরী সম্বন্ধে লিখবো। আমার আগের লেখায় (কিভাবে ভাল শেয়ার নির্বাচন করবেন ?) বলেছিলাম ৫টি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ভাল শেয়ার নির্বাচন করার জন্য। ঔ পাঁচটির মধ্যে একটি হচ্ছে ক্যাটাগরী।
শেয়ার বাজারে মোট পাঁচ ক্যাটাগরীর শেয়ার আছে। ক্যাটাগরী গুলো হচ্ছে :
১। ক্যাটাগরী-এ (A)
২। ক্যাটাগরী-বি (B)
৩। ক্যাটাগরী-জি (G)
৪। ক্যাটাগরী-এন (N)
৫। ক্যাটাগরী-জেড (Z)

ক্যাটাগরী-এ :

যে সব কোম্পানী মিয়মিত বার্ষিক সাধারন সভা (AGM) করে এবং নূন্যতম ১০% বা তার চেয়ে অধিক হারে লভ্যাংশ প্রদান করে সে কোম্পানীর শেয়ার এ ক্যাটাগরীর।

ক্যাটাগরী-বি:

যে সব কোম্পানী নিয়মিত সাধারন সভা (AGM) করে কিন্তু ১০% এর কম হারে লভ্যাংশ প্রদান করে সে কোম্পানীর শেয়ার বি ক্যাটাগরীর।

ক্যাটাগরী-জি:

যে সকল কোম্পানী এখনো তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেনি সে কোম্পানীর শেয়ার জি ক্যাটাগরীর।

ক্যাটাগরী-এন:

শেয়ার বাজারে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারকে এই শ্রেনীতে রাখা হয়। (জি ক্যাটাগরী ব্যাতিত) এবং বার্ষিক সাধারনসভা ও লভ্যাংশ প্রদানের উপর ভিত্তি করে তাকে অন্য ক্যাটাগরিতে নেয়া হয়।

ক্যাটাগরী-জেড:

যে সকল কোম্পানী নিয়মিত বার্ষিক সাধারন সভা (AGM) করে না। লভ্যাংশ প্রদান করতে ব্যার্থ পুঞ্জিভুত লোকসান সঞ্চিত মুনাফাকে ছাড়িয়ে যায়। ৬মাস বা তার বেশী সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ। সে কোম্পানীর শেয়ার জেড ক্যাটাগরীর।
কোন শেয়ার কোন ক্যাটাগরীর তা জানতে এখানে ভিজিট করুন
আশাকরি বুঝতে পারছেন কোনটা ভাল কোম্পানীর শেয়ার। তবে শুধু ক্যাটাগরীর উপর নির্ভর করে ভাল শেয়ার নির্বাচন করা ঠিক হবে না। এর জন্য আরো রয়েছে :
    ১। শেয়ার প্রতি আয় (earnings per share: EPS)
    ২। প্রতি শেয়ারে মুনাফা প্রদান (dividend per share: DPS)
    ৩। মুল্য-আয় অনুপাত (price earning ratio: P/E)
    ৪। মুনাফা অর্জনের হার (Dividend yield) ইত্যাদি।

কিভাবে ভাল শেয়ার নির্বাচন করবেন ?

আমার আগের লেখাগুলোতে বলেছিলাম শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে হলে আপনাকে কি কি করতে হবে। নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে আপনি পুরোপুরি প্রস্তুত বিনিয়োগের জন্য।

মানসিক প্রস্তুতি

শুরু করার পূর্বে বড় করে একটা শ্বাস নিন এবং নিজেকে সাহস দিন, যেন যেকোন পরিস্থিতিতে ভেঙ্গে না পড়েন। হার্টটাকে শক্ত করুন। ধের্য্যশীল হোন। এগুলো যদি না থাকতো তাহলে ১৯৯৬ সালে আমার একটা শেয়ার যখন ২৪৮ টাকা থেকে মাত্র ৩৪ টাকায় নেমে এসেছিল তখন আমার অবস্থাটা একটু চিন্তা করে দেখুন? নো রিসক নো গেইন।

ভাল শেয়ার কিনুন

ভাল শেয়ার কিনুন-এই উপদেশটা সবাই দেয়, ডিএসই’র চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বাজারের কনিষ্ঠতম বিনিয়োগকারী। কিন্তু ভাল শেয়ার বুঝবো কিভাবে ? ভাল একটি আপেক্ষিক শব্দ। একজনের কাছে যা ভাল অন্য জনের কাছে তা নাও হতে পারে। যদি নির্দিষ্ট করে বলাই যেত উমুক শেয়ার সবচেয়ে ভাল তাহলেতো সবাই ঐ নির্দিষ্ট শেয়ারই কিনতো। তাই ভাল শেয়ার নির্বাচন করতে হবে আপনাকে।

কিসের উপর নির্ভর করে ভাল শেয়ার নির্বাচন করবেন ?

    ১। ক্যাটাগরী (Category)
    ২। যেমন শেয়ার প্রতি আয় (earnings per share: EPS)
    ৩। প্রতি শেয়ারে মুনাফা প্রদান (dividend per share: DPS)
    ৪। মুল্য-আয় অনুপাত (price earning ratio: P/E)
    ৫। মুনাফা অর্জনের হার (Dividend yield) ইত্যাদি।

প্রবাসীরা কোথায় খুলবেন বিও, এফসি একাউন্ট ?

প্রবাসীরা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে চাইলে তাদেরকে বিও একাউন্ট, নিটা একাউন্ট ও এফসি একাউন্ট করতে হয়। এ বিষয়ে আমি এই পোষ্টে লিখেছিলাম। এরপর অনেকে জানতে চেয়েছেন কোথায় এবং কিভাবে এসব একাউন্ট করতে হবে। তাদের জন্য এই পোষ্ট। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি ব্যাংকই প্রবাসীদের জন্য আলাদা সেবা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে দুটি ব্যাংকের বিস্তারিত এখানে তুলে ধরলাম। আশা করি আপনাদের কাজে লাগবে।

১। ব্র্যাক ব্যাংক

ব্র্যাক ব্যাংক প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী বিনিয়োগ নাম একটি সেবা চালু করেছে। আপনি অনলাইনে সমস্ত ফর্ম ডাউনলোড করতে পারবেন ব্যাংকের ওয়েব সাইট থেকে। এরপর তা পুরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সহ পাঠিয়ে দিতে হবে নির্দেশিত ঠিকানা মতে। আপনি বিস্তারিত জানতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায় :
ZARIA ZAREEN
PROBASHI BANKING SERVICE
BRAC BANK LIMITED
1 GULSHAN AVENUE, GULSHAN 1,
DHAKA 1212, BANGLADESH
ফোন: ০০৮৮০১৮১৯২৩০০০০
ইমেইল: probashi@bracbank.com

২। এইচএসবিসি ব্যাংক

ঠিক এইরকম সুবিধা দিচ্ছে এইচএসবিসি ব্যাংক। বিস্তারিত জানতে ও ফর্ম ডাউনলোড করতে হলে এখানে ভিজিট করুন
    যোগাযোগের ঠিকানা:
Toll free number for UAE
Phone: 800 NRBD (6723) – For NRBs in Dubai only
NRB relationship team in UAE at the IBC
HSBC Bank Middle east Limited:
Phone: +971 56 6030961, +971 56 6031695
NRB relationship team in Bangladesh
Phone: +88 02 9660536-43 Ext 940, 966, 129, 141, 142
Call centre: +88 01190 PROBAS (776277)
Email: nrb@hsbc.com.bd

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীর জন্য সফটওয়্যার : Profita

Profita

যারা শেয়ার ব্যাবসায় বিনিয়োগ করেছেন বা করবেন বলে ভাবছেন তাদের প্রায়ই বিভিন্ন Analysis করতে হয় । আর এ কাজের জন্য ঘুরতে হয় বিভিন্ন ওয়েব সাইটে এবং তা সম্পুর্ণটাই করতে হয় অনলাইনে। অফলাইনে বসেই আপনি করতে পারেন আপনার সমস্ত Analysis শুধুমাত্র একটি সফটওয়্যার দিয়ে। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের জন্য -



আপনাকে জানতে হয়:


  • পিই (PE)

  • ন্যাভ (NAV)

  • ইপিএস (EPS)

  • মোট শেয়ার (Total Number of Share)

  • অনুমদিত মূলধন(Authorized Capital)

  • পরিশোধীত মূলধন (Paid up Capital)

  • ১/২ বৎসরের বাজার বিশ্লেষন(Analysis) ইত্যাদি, ইত্যাদি আর এই সব Analysis এর জন্য দরকারী সমস্ত তথ্যই পাবেন প্রফিটা তে। অনেকেই হয়ত ইতিমধ্যে জানেন প্রফিটা সম্পর্কে। যারা জানেন না তাদের জন্য এই পোস্ট।

    কে তৈরী করেছেন:


    এটি তৈরী করেছেন জনাব মাহবুব। উনার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে এখান থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

    কি কি রয়েছে এতে :

    সংক্ষেপে বলতে গেলে কি নেই এতে ? আপনার যা প্রয়োজন হতে পারে প্রাই সবই আছে এতে এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য কয়েকটি ফিচার হচ্ছে :
    * DSE, CSE share price of last 2 years.
    * Share Price, Trade, Volume, Price Range in last trading day, Price range in selected date range from DSE and CSE in a single table.
    * The same table contains Annualized and Yearly Audited PE, Dividend and NAV data with Declaration Date; AGM, Record Date, Total share, Category and PPS (price position in percentage according to maximum and minimum price in selected date range.)
    * Price – Volume Graph of last 2 years.
    * Complete price list of each company in storable table. You can see the highest and lowest price date.
    * Company information with Financial Reports and charts (MACD, RSI, CandleStick chart etc.)
    * Search section has criteria like : Scrip Name, Date & Price Range, AGM Period, Face Value, Category and Business Category.
    * DSE News of last 2 years with company, date and category wise search.
    * Portfolio manager which has following feature
    * The software has a Dividend calculator which shows minimum price for profit.
    * An Info to show Forthcoming IPO and Other important notice.
    * Built in Web Browser with some important link
    * Mobile web watch list with offer/bid price of DSE & CSE added.
    * Realtime Trade Monitor with complete analysis and porfolio integration.
    সফটওয়্যারটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে ঘুরে আসুন এখান থেকে।

    মূল্য কত ? :

    এটি পাওয়া যাচ্ছে এখন পর্যন্ত একদম ফ্রীতে। আর প্রতিদিন লেনদেন শেষে শেয়ার মূল্য ও নিউজ আপডেট করতে পারবেন। ডাউনলোড করুন এখান থেকে।
  • শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের জন্য প্রবাসীদের করনীয়

    ঢাকা ষ্টক এক্সচেঞ্জ (নির্মাণাধীন)
    বাংলাদেশী প্রবাসী বন্ধুরা প্রায়ই জানতে চায় কিভাবে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করবে। তাদের জন্যই আমার এই পোষ্ট। প্রবাসী (NRB) যারা শেয়ারে বিনিয়োগ করতে চান তাদের জন্য দুটি ব্যবস্থা রয়েছে।
    ১। প্রাথমিক শেয়ার (IPO)
    ২। সেকেন্ডারী শেয়ার

    আর লেনদেনের জন্য রয়েছে দুটি মার্কেট
    ১। ঢাকা ষ্টক এক্সচেঞ্জ
    ২। চট্টগ্রাম ষ্টক এক্সচেঞ্জ
    শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হলে আপনাকে প্রথমে একটি FC একাউন্ট ও একটি BO একাউন্ট করতে হবে। FC একাউন্ট বাংলাদেশের যে কোন বানিজ্যিক ব্যাংকে করতে পারেন। আর BO একাউন্ট করতে হবে কোন ব্রোকারেজ হাউজের মাধম্যে CDBL(Central Depository Bangladesh Limited) এ। আপনি যেহেতু প্রবাসী তাই এ দুটি হিসাব পরিচালনার জন্য আপনার বিশ্বস্ত কাউকে সম্পুর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে। যিনি আপনার হয়ে সমস্ত কর্মকান্ড পরিচালনা করবেন। নতুন কোন শেয়ার বাজারে আসলে আপনার হয়ে উনি শেয়ারের জন্য আবেদন করবেন।

    আপনি চাইলে অনলাইনে বিদেশে বসে সেকেন্ডারী মাকের্টে শেয়ার কেনা বেচা করতে পারেন।
    

    7 Tips for Investor Who Are In The Stock Market For The First Time

    small investor
    1. Start Small
    2. Essential Funds Should Not Be Used
    3. Don’t Let Emotions Rule
    4. Research Before Putting In The Money
    5. Be Realistic
    6. Seek Help From Expert
    7. Embrace and Learn From Failures

    Frequently Asked Questions